পিরোজপুরের নেছারাবাদে নারী ও মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এক বন্ধুকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর পুলিশ এবং র্যাব যৌথভাবে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার (১৫ মার্চ) পিরোজপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বরিশালের কাশিপুর এলাকার আমির হোসেনের ছেলে তারিকুল ইসলাম ওরফে সম্রাট (৩৪) এবং পিরোজপুরের দূর্গাপুর এলাকার বাবুল হোসেন মাঝির ছেলে আবেদিন মাঝি ওরফে রাজু (৪২)। সম্রাট বরিশালের একজন ওষুধ ব্যবসায়ী এবং রাজু পেশাদার মাদককারবারি। পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে নিহত গোপাল চন্দ্র দাস (৪৫)—যিনি বরিশালের কাশিপুর এলাকার পরিমল চন্দ্র দাসের ছেলে এবং ট্রাক চালক—কে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেলে করে নেছারাবাদের সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের পূর্ব সারেংকাঠি গ্রামের একটি ইটভাটার পাশে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। তার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলা হয়। মরদেহ পরে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে উদ্ধার করা হয়। নিহতের ভাই মানিক চন্দ্র দাস নেছারাবাদ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানায়, নিহত ও গ্রেপ্তারকৃতরা মাদক কারবারে জড়িত ছিল। হত্যার পিছনে নারী ও মাদকসংক্রান্ত বিরোধ কাজ করেছে। গ্রেপ্তারকালে র্যাব হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও একটি হাতুড়ি উদ্ধার করেছে। তবে নিহতের মাথা ও হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র এখনও নদী থেকে উদ্ধার করা যায়নি। পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। এই ঘটনায় র্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান ও পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হত্যার দিন বিকেল ৩টার দিকে তিনজন মোটরসাইকেলে ইটভাটায় প্রবেশ করে এবং হত্যার কিছুক্ষণ পর সম্রাট ও রাজু একই মোটরসাইকেলে বের হয়ে যায়। পরের দিন ও রাতে তারা বরিশালের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ লোড হচ্ছে...





