মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় একটি বিয়েবাড়িতে উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে টানা দুই ঘণ্টা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রাজৈর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদশাহ মীরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজৈর উপজেলা সদরের বেপাড়ীপাড়া মোড় ও পশ্চিম রাজৈর গ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় একটি দোকান ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের জের ধরে শনিবার সকালে একটি পক্ষ এলাকায় মহড়া দিয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে রাজৈর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম রাজৈর গ্রামে শহীদ শেখের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে সাউন্ড বক্সে উচ্চস্বরে গান বাজানো হচ্ছিল। জুমার নামাজ চলাকালে এ নিয়ে এক মুসল্লি প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় রাজৈর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর খান বিষয়টি মসজিদের ভেতরে আলোচনা না করার অনুরোধ করলে পাত্রীর চাচা অলি শেখের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।

এর জেরে সন্ধ্যায় রাজৈর বাজারের বেপাড়ীপাড়া মোড়ে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি জাহাঙ্গীর খানের জ্বালানি কাঠের দোকান ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে প্রশাসনের পরামর্শে স্থানীয় কয়েকজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি, যার মধ্যে বাদশাহ মীরও ছিলেন, মীমাংসার উদ্দেশ্যে পশ্চিম রাজৈর গ্রামে জাহাঙ্গীর খানের বাড়িতে গেলে সেখানে আবার হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বাদশাহ মীর গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের পর মীমাংসার চেষ্টা চলাকালে আবার মারধরের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে তিনি জানান।