জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, মৌলিক সংস্কার নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় এখনও কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বিএনপির আপত্তির কারণে সাংবিধানিক পদের জন্য নিয়োগ কমিটি গঠনও সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

রোববার (২৯ জুন) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আখতার হোসেন বলেন, “আজকের আলোচনায় মৌলিক সংস্কারে ঐকমত্যের জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি। বিএনপির আপত্তির কারণে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রস্তাব বাস্তবায়নযোগ্য হয়নি। মৌলিক সংস্কার প্রক্রিয়া বিএনপি ও আরও কয়েকটি দলের অবস্থানের কারণে কার্যত আটকে গেছে।”


আলোচনার নমনীয়তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে আখতার বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় হলেও, তাদের অতিরিক্ত নমনীয়তা আমাদের আশঙ্কায় ফেলেছে। মৌলিক সংস্কারের যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেখানে ‘কোড-আনকোড’ভাবে বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট কিছু দল দ্বিমত জানাচ্ছে। দীর্ঘ আলোচনার পরও হাউজে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি—এটি হতাশাজনক।”


এনসিপির এই নেতা বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে, বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত হবে। যদি পূর্বের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানমন্ত্রীর একক কর্তৃত্বে চলে যায়, তাহলে এই ঐক্য প্রক্রিয়ার কোনো অর্থ থাকে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ প্রয়োজন এবং তা বাস্তবায়নে নিম্নকক্ষের পাশাপাশি উচ্চকক্ষেও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। সংবিধানের মৌলিক বিষয়গুলোতে আপস করা যাবে না।”