যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলা করতে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার কৌশল নিচ্ছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সম্প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে একাধিক যোগাযোগে এই ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
সূত্র অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত এবং হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সম্ভাব্য প্রস্তাবের বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোকে অবহিত করা হয়। এরপর তিনি ফ্রান্স, জার্মানি, সৌদি আরব, ওমান ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে পাশ কাটিয়ে ইরান ইস্যুতে সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করছে। অন্যদিকে তেহরানও ইউরোপকে অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবাধীন মনে করে আসছিল। তবে বর্তমানে আটলান্টিকের দুই পাশের সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ায় ইরান নতুন করে ইউরোপকে কূটনৈতিক চাপ তৈরির সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করছে।
ইউরোপীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক নৌ-জোট গঠনের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করছে। তবে এই উদ্যোগ যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে মাইন অপসারণ, নৌ-এসকর্ট ব্যবস্থা এবং চলাচলের নিয়ম নির্ধারণের বিষয়ও থাকতে পারে।
ইতালির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরেও মতভেদ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ফলে ইউরোপ এখন ইরান ইস্যুতে আরও স্বাধীন অবস্থান নেওয়ার দিকে ঝুঁকছে।
অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রস্তাব বিবেচনা করছে, যার মধ্যে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল ব্যবস্থা চালুর বিষয়ও রয়েছে। পার্লামেন্টে উত্থাপিত এক প্রস্তাবে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই ফি কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিচালিত হওয়ায় এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো ব্যবস্থা গড়ে উঠলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলায় ইউরোপকে কূটনৈতিক ভারসাম্যের নতুন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।





