যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে, যেখানে এক কূটনীতিকের সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথনের অডিও প্রকাশ পেয়েছে।

অডিওতে কূটনীতিকটি বলেন, “আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।” তিনি আশ্বাস দেন, জামায়াত নির্বাচিত হলেও বাংলাদেশে শরীয়াহ আইন চালু করবে না। আর যদি চালু করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামি আন্দোলনকেও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

জানা যায়, কূটনীতিক সাংবাদিককে প্রশ্ন করেছিলেন, ছাত্রশিবিরের নেতারা তাদের অনুষ্ঠানে আসবে কি না এবং বিদেশি প্রভাব ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে কি না। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রাথমিকভাবে পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। শরীয়াহ আইন চালু হলে অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে।”

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মোনিকা শিই-র বরাতে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে এই আলাপ সাধারণ বৈঠকের অংশ ছিল এবং এটি প্রকাশ করা হয় না। জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমানও জানান, ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকের বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে ২০২৪ সালের পর থেকে ওয়াশিংটন ও ঢাকায় জামায়াতের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন মনোভাব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে জটিল করতে পারে। আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান মন্তব্য করেছেন, “ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ জামায়াতকে পাকিস্তানের মিত্র হিসেবে দেখা। যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।”