রংপুর-৪ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ থামছে না। বিজয়ী প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র সদস্য সচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন, বিএনপি প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছেন যেখানে “যে কোনো সময়” তাঁকে বা তাঁর সমর্থকদের হত্যা করা হতে পারে।


\r\n

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে রংপুর নগরীর টাউন হল এলাকায় জুলাই চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই শঙ্কার কথা জানান। তাঁর দাবি, পরাজয়ের পর বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার লোকজন তাঁর সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং অন্তত আটজনকে রক্তাক্ত করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

\r\n

এদিকে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিএনপি প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকরা আন্দোলন করছেন। শনিবার দুপুরে কাউনিয়ার হারাগাছ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে আগুন জ্বালিয়ে ও ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন নেতাকর্মীরা।

\r\n

সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন বলেন, ভোটের দিন কিংবা পরদিন বিকেল পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থী কোনো অভিযোগ তোলেননি। কিন্তু শুক্রবার বিকেল থেকে মাইকে ঘোষণা দিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে মিছিল এবং সহিংসতা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আইনগতভাবে ভোট পুনর্গণনার আবেদন করা যেত, কিন্তু তার বদলে সন্ত্রাসের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

\r\n

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কাউনিয়া ও হারাগাছ এলাকায় তাঁর দলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। এনসিপির জেলা কমিটির নেতা সুমনের বাড়িতে হামলা করে টাকা ও স্বর্ণ লুট করা হয়েছে, প্রধান সমন্বয়কারী আরাফাতের বাড়ির গেট ভাঙচুর করা হয়েছে, জামায়াত কর্মী আব্দুল মমিনের বাড়িতেও হামলা হয়েছে। হারাগাছে তাঁর দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

\r\n

আখতার হোসেন বলেন, কাউনিয়া ও পীরগাছাবাসীর দেওয়া ম্যান্ডেট রক্ষায় তিনি জীবন দিতেও প্রস্তুত। একই সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে জানান, ডিসি-এসপি ও পুলিশ কমিশনারকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

\r\n

অন্যদিকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি মোতায়েন আছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।