ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের সামরিক গবেষণা কেন্দ্র ভাইসমান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। দক্ষিণ তেল আবিবের রেহোভত শহরে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।


প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ এই কমপ্লেক্সের প্রায় ৯০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশের মধ্যে রয়েছে নতুন নির্মিত রাসায়নিক ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণাগার, জীববিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান এবং অণুজীববিজ্ঞানের ল্যাব।


ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই হামলাকে ‘ভুল করে’ নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে পদার্থবিদ্যা, বায়োটেকনোলজি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ সামরিক গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে।


ভাইসমান ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট আলোন চেন ইসরায়েলি চ্যানেল ১৩–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই হামলার ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০০ মিলিয়ন থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।”


তিনি আরও জানান, ছবি ও ফুটেজ প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে যাতে ইরান একই জায়গায় পুনরায় আঘাত করতে না পারে।


বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অধ্যাপক এলদাদ জাহর। হৃদযন্ত্র পুনর্জন্ম গবেষণায় ২২ বছরের কাজের ফল হিসেবে থাকা হাজারো টিস্যু, ডিএনএ, অ্যান্টিবডি ও পরীক্ষামূলক ভাইরাসের নমুনা আগুনে পুড়ে গেছে।


প্রতিষ্ঠানজুড়ে ৪৫টির বেশি ল্যাব সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ গবেষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস ভবনও ক্ষেপণাস্ত্রের শকওয়েভে ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।


প্রেস টিভি বলছে, ১৫ জুন ইরান এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এটি সামরিক ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ইসরায়েলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।