রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় আটজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। একইসঙ্গে এলাকার কয়েকটি বাড়ির ফ্রিজে রাখা গরুর মাংসেও অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু পাওয়া গেছে।
আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. তাহমিনা শিরীন জানিয়েছেন, আক্রান্তরা মূলত অসুস্থ গরুর মাংস কাটাকাটি ও কাঁচা মাংসের সংস্পর্শে আসায় এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর নমুনা সংগ্রহের পর ১২ জনের মধ্যে ৮ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স ধরা পড়ে।
পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিন জানান, গত দেড় মাসে অন্তত ৩০ জন অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সুস্থ হয়েছেন। তবে অ্যানথ্রাক্সে দুজনের মৃত্যুর খবর সঠিক নয় বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা মো. একরামুল হক মণ্ডল জানান, অসুস্থ অন্তত পাঁচটি গরু জবাইয়ের ঘটনা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটির মাংস এলাকাবাসীর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ফ্রিজে রাখা সেই মাংসেও অ্যানথ্রাক্স জীবাণু পাওয়া গেছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে পীরগাছাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দেড় লাখের বেশি গবাদিপশুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কসাই ও পশুপালকদের অসুস্থ গরু জবাই থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, অ্যানথ্রাক্সের চিকিৎসা সহজলভ্য হলেও অসুস্থ গরুর মাংস জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। অসুস্থ পশুকে চিকিৎসা করানো এবং মারা গেলে গভীর মাটির নিচে পুঁতে ফেলা ছাড়া বিকল্প নেই।
বাংলাদেশে রান্না করা মাংস খাওয়ার মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের ঝুঁকি খুব কম হলেও কাঁচা মাংসের সংস্পর্শে যাওয়া ব্যক্তিদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এদিকে পীরগাছার পাশাপাশি রংপুরের মিঠাপুকুর ও কাউনিয়া উপজেলায়ও অ্যানথ্রাক্স উপসর্গের রোগী শনাক্ত হয়েছে। সেখানকার নমুনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।





