রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি এ ফলাফলকে তাদের জন্য “বড় রাজনৈতিক বিজয়” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিজয়োত্তর প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তিনি।
আখতার হোসেন জানান, রংপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে ১১ দলীয় জোট একটি আসনে শাপলা কলি এবং পাঁচটি আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জয়লাভ করেছে। তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনে যেমন আওয়ামী লীগ কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়েছে, তেমনি জাতীয় পার্টিও রংপুরের জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট জাতীয় পার্টি যেভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমেও রংপুরবাসী তাদের একই বার্তা দিয়েছে। স্বৈরাচারের দোসরদের জনগণ মেনে নেয়নি—এটাই আমাদের বড় সাফল্য।”
নির্বাচনে সহযোগিতার জন্য ভোটার, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, “নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন এবং রংপুরবাসী যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।”
তবে নির্বাচনের বিভিন্ন স্থানে কারচুপি, সংঘর্ষ ও সহিংসতার অভিযোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। জানান, এসব বিষয়ে দল ও জোটের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা চলছে এবং শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে।
এদিকে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের ফলাফল সম্পর্কে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান জানান, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন। পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলার ১৬৩টি কেন্দ্রে ৯৪৪টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৩১৪ জন ভোটার ভোট দেন। এর মধ্যে ৮ হাজার ২৬৩টি ভোট বাতিল হয় এবং বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ৫১।
শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আখতার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। ফলে আখতার হোসেন বিজয়ী হয়েছেন।





