গঙ্গাচড়া (রংপুর) রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ১নং বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (আজ) দুপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতাকর্মীরা তার গ্রেপ্তারের দাবিতে অবস্থান নিলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভায় যোগ দিতে উপজেলা পরিষদে আসেন চেয়ারম্যান মারুফ। এ সময় তার উপস্থিতির খবর পেয়ে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা চেয়ারম্যানকে কার্যালয়ের ভেতরেই অবরুদ্ধ করে রাখেন।
আন্দোলনকারীরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার অভিযোগ তুলে তার গ্রেপ্তার দাবি করেন। পাশাপাশি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলেও অভিযোগ তোলেন তারা। পরে পুলিশকে ফোন করে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হলেও ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী না আসায় প্রায় এক ঘণ্টা পর আন্দোলনকারীরা তাকে ছেড়ে দেন।
এ সময় আন্দোলনকারীরা আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চেয়ারম্যান মারুফের প্রভাবে তাদের অনেক নেতাকর্মী হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে প্রত্যাহার করা হলেও পরে ‘টাকার বিনিময়ে’ তিনি পুনর্বহাল হয়েছেন—এমন দাবিও করেন তারা। আগামী রোববারের মধ্যে তাকে অপসারণের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
জাতীয় নাগরিক পার্টি গঙ্গাচড়া উপজেলা শাখার সাবেক প্রধান সমন্বয়কারী রিফাতুজ্জামান বলেন,
“সারা দেশে যেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, সেখানে একজন নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান কীভাবে বহাল থাকেন—এ প্রশ্নের জবাব চাই। আমরা তার গ্রেপ্তার চাই।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সংগঠক ও এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী জীবন হোসাইন বলেন,
“গত বছরের আন্দোলনের মুখে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। অথচ বিদায়ী জেলা প্রশাসক তাকে পুনর্বহাল করে গেছেন। এটি দুঃখজনক।”
অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, চেয়ারম্যানকে পুনর্বহাল বা অপসারণের ক্ষমতা তাদের হাতে নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন,
“চেয়ারম্যানকে পুনর্বহালের ক্ষমতা আমার নেই। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে পদে ফিরেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাব।”
জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফ পুনর্বহালের জন্য আবেদন করলে গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফ বলেন,
“আমি আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি এবং আমার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে জামিন পেয়েছি। আইনগত প্রক্রিয়ায় পুনর্বহাল হয়েছি। যদি প্রশাসন আমাকে সরিয়ে দেয়, আমি মেনে নেব। তবে এভাবে অবরুদ্ধ করে অপমান করা ঠিক নয়।





