রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে এবার যমুনা সেতুর মহাসড়ক ব্লকেড করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত যমুনা সেতু পশ্চিমপাড় গোলচত্বর এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী এ অবরোধে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
এ সময় সেতুর দুই পাড়ে শত শত যানবাহন আটকা পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।
সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী হৃদয় সরকার বলেন, “গতকাল (বুধবার) আমরা উল্লাপাড়ায় রেলপথ অবরোধ করেছিলাম। সেখান থেকে আজ (বৃহস্পতিবার) রেলপথ ও মহাসড়ক অবরোধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
“কিন্ত রেলের সিডিউল বিপর্যয় ঘটার আশংকায় রেলপথ বাদ দিয়ে শুধু মহাসড়ক অবরোধ করেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সৃষ্টি ব্যানার্জি বলেন, “স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে আমরা ২৬ জুলাই থেকে লাগাতার আন্দোলন করছি। কিন্তু সরকারের কোনো পক্ষ এ বিষয়ে কর্ণপাত করছে না। বাধ্য হয়ে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করেছি।
তিনি আরও বলেন, “আগামী ১৭ অগাস্ট একনেক সভা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা আশা করছি সরকার ওই সভায় আমাদের দাবি মেনে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসের ডিপিপির (প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা) অনুমোদন দেবে।”
ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ১১টা ৫০ মিনিটে এসে মহাসড়কে বসে পড়েন। তারা উভয় লেনই বন্ধ করে দেওয়ায় মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
“এ অবস্থায় উভয় লেনে শত শত যানবাহন আটকা পড়েছিল। যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছিল। ঘণ্টাখানেক পরে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে।”
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজরিত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে তারই রেখে যাওয়া ২২৫ একর জায়গা বরাদ্দ করে প্রায় ৯ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ।
বর্তমানে বাংলা, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সঙ্গীত ও ব্যবস্থাপনা নামে পাঁচটি বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজার ২০০। ৩৪ জন শিক্ষক, ৫৪ কর্মকর্তা ও ১০৭ জন কর্মচারী রয়েছে প্রতিষ্ঠানে।
কিন্তু প্রতিষ্ঠার এতো দিনেও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মিত হয়নি।
শাহজাদপুর মহিলা কলেজ, সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া ডিগ্রি কলেজসহ ভাড়া করা দুটি বাড়িতে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও কর্মচারী-কর্মকর্তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, সব সুবিধা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণে প্রকল্প জমা দিলেও তা অনুমোদন হয়নি। সর্বশেষ নিষ্কন্টক ১০০ একর জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস নির্মাণে জমা দেওয়া হয়েছে ৫১৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর যা একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত ডিপিপি অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সম্প্রতি পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এলাকা পরিদর্শন শেষে পরিবেশের দোহাই দিয়ে ডিপিপির বিরোধিতা করেছেন। যে কারণে একনেকে ডিপিপি উপস্থাপন ও পাস হচ্ছে না।
তাই ডিপিপি অনুমোদনের দাবিতে ২৬ জুলাই থেকে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে লাগাতার আন্দোলন চলছে। তাদের আন্দোলনের সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।