রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় রুবেলা ও হামের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) গত দুই দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আক্রান্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও রংপুর।

হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আয়েশা সুলতানা জানান, আক্রান্ত শিশুদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে লালমনিরহাটের ৮ মাস বয়সী আমাতুল্লা জান্নাত এবং দিনাজপুরের ৭ মাস বয়সী প্রজ্ঞা রায় আগে শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকলেও মঙ্গলবার থেকে তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দুই বছর বয়সী আরাফাত ও রংপুরের তাজহাটের ৯ মাস বয়সী সায়েম আহমেদকেও একই ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের জ্বর, শরীরে র‍্যাশ এবং গলা ফোলার মতো উপসর্গ দেখা গেছে।

তবে রংপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, জেলায় এখনো বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব হয়নি। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আট উপজেলায় ১২ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে চারজনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

অন্যদিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে আট জেলায় ১১৬ জন সন্দেহভাজনের নমুনা পরীক্ষা করে ছয়জনের হাম এবং চারজনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে।

রংপুরের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. গাওসুল আজিম চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় রমেকে ১০ শয্যার বিশেষ হাম কর্নার চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতেও বিশেষ কর্নার চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে এমআর টিকার কোনো সংকট নেই।