রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতায় শর্ত আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হত্যার মতো ব্যক্তিগত অপরাধের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবারের সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্রপতি এককভাবে দণ্ড মওকুফ করতে পারবেন না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সম্মতি দিলে, তবেই ক্ষমা বিবেচনায় আসবে। এতে ইনসাফ (ন্যায়বিচার) নিশ্চিত হবে।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় ধাপের নবম দিনের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই প্রস্তাব তুলে ধরেন।

আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছি। যদি কোনো ব্যক্তি হত্যার মতো অপরাধে দণ্ডিত হন, তবে ভুক্তভোগী পরিবারের সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্রপতি বা কমিটি সেই সাজা মাফ করতে পারবে না। এতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে।”

তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের আগে একটি সুপারিশ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেবে, যার মাধ্যমে ক্ষমা প্রদর্শনের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়নিষ্ঠ হবে।

জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, অতীতে রাষ্ট্রপতির একক সিদ্ধান্তে পরিচিত অপরাধীদের ক্ষমা করার নজির রয়েছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এ অভিজ্ঞতা থেকেই নতুন প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


আলোচনায় হাইকোর্টের বিকেন্দ্রীকরণ নিয়েও আলোচনা হয়। জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, “২০ কোটি মানুষের দেশে সবাই ঢাকায় এসে বিচার পাওয়ার সুযোগ রাখে না। তাই বিভাগীয় শহরে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন সময়ের দাবি।”

তিনি বলেন, বিচারপতি ও দক্ষ আইনজীবীর সংকট থাকা সত্ত্বেও মেধাবী ব্যক্তিদের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে এ ঘাটতি পূরণ সম্ভব। সংবিধানে একটি একক সুপ্রিম কোর্ট রাখার বিষয়টি অপরিবর্তিত রেখে হাইকোর্ট বেঞ্চ বিভাগীয় শহরে স্থাপন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখন একটি স্পষ্ট ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

আজকের আলোচনায় বিএনপিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। কমিশনের অন্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার ও মো. আইয়ুব মিয়া। আলোচনার সঞ্চালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (জাতীয় ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দার।