ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করতে হলে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে। তিনি জানান, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ডাকসুর পক্ষ থেকে শিগগিরই দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ওসমান হাদি হল (শেখ মুজিবুর রহমান হল) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং আসন্ন ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনে এর প্রতিরোধ’।
সাদিক কায়েম বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমাদের আহ্বান, কেউ যেন সংস্কারের পথে বাধা না দেয়। অতীতে বাধার কারণে অনেক দল নিজেই জুলুমের শিকার হয়েছে। সাময়িক ভুলের কারণে তারা যেন পুনরায় সেই পথে না হাঁটে।” তিনি স্মরণ করান, জুলাইয়ের শহীদেরা রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ে তোলার জন্য জীবন দিয়েছেন, প্রায় ৪০ হাজার ভাই-বোন তাদের অঙ্গ হারিয়েছেন। এই ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না।
ডাকসু ভিপি আরও বলেন, এই গণভোটের মাধ্যমে আগামী ৫০ বছরের বাংলাদেশের রাষ্ট্রের রূপরেখা নির্ধারিত হবে। তাই সবাইকে কর্মসূচিভিত্তিক প্রচারণায় যুক্ত হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে, যা তাদের নিজের ক্ষতি করবে। এজন্য জাতীয় ঐকমত্য তৈরি করে বিপুল ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিনিধি নির্বাচনে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, যারা পেশিশক্তি, মাফিয়াতন্ত্র বা চাঁদাবাজি ফিরিয়ে আনতে চায়, তাদের যে দলেরই হোক না কেন, ‘লাল কার্ড’ দেখাতে হবে। প্রার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও তরুণদের ক্ষমতায়ন বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার ওপর জোর দেন তিনি।
তরুণ ভোটারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের চার কোটি তরুণ এখনো ভোট দিতে পারেনি। তরুণরা যেদিকে যাবে, বিজয় সেদিকেই হবে। তাই তাদের অবজ্ঞা করা মানেই নিজেদের ক্ষতি। একই সঙ্গে তিনি ক্যাম্পাসে লেজুড়বৃত্তি ও দখলদারিত্বের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে মেধাভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন।
২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লব তরুণরাই ঘটিয়েছে। তাই ২০২৬ সালের নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। সেখানে কোনো ধরনের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপি বরদাশত করা হবে না। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে বাংলাদেশ আবার পথ হারাবে।
পরিশেষে তিনি কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করার এবং জুলাইয়ের শহিদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করে একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।





