ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানাকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে রুমিন ফারহানা ও জাপার নেতাদের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ ভাসানী বলেন, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা মিথ্যা মামলা ও হুমকির মুখে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টি রুমিন ফারহানার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তার প্রতিদান দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি জানান, জিয়াউল হক মৃধা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী নির্দেশ দিয়েছেন, জাতীয় পার্টির সব নেতাকর্মী যেন রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচন না করার ঘোষণার পর দলটি সম্মিলিতভাবে ‘হাঁস’ প্রতীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাতীয় পার্টিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখনই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব নয়। আগে নির্বাচন করতে হবে এবং জয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সামনে ১২ ফেব্রুয়ারি একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে যেন পেশীশক্তি, কালো টাকা, ভয়ভীতি বা হুমকির কারণে কোনো যোগ্য প্রার্থী ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন এবং ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, তার নেতাকর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। রাতে ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, কাউকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলা হচ্ছে ‘হাঁস’ প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি সমর্থিত জোট প্রার্থী কয়েক কোটি টাকার বাজেট নিয়ে মাঠে নেমেছেন এবং আগামী দুই দিনে অর্থ বিতরণ করা হতে পারে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি কামনা করেন তিনি।

এর আগে গ্রেপ্তারের হুমকির অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী জিয়াউল হক মৃধা। তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী রুমিন ফারহানা ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির জোট সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, যার প্রতীক ‘খেঁজুর গাছ’।