নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলমান স্কুল ফিডিং বা মিড ডে মিল কর্মসূচিতে খাবার বিতরণে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নিম্নমানের, বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, যা খেয়ে অনেক শিশু পেটের পীড়াসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছে।
সরেজমিনে জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহযোগিতায় রূপগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভার ১১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২ হাজার ৯২৩ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির গড় ৯২ শতাংশ ধরে সপ্তাহে পাঁচ দিন পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
খাবারের তালিকায় রয়েছে বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, ইউএইচটি দুধ, ফর্টিফাইড বিস্কুট এবং মৌসুমী ফল বা কলা। তবে একাধিক বিদ্যালয়ে এসব খাবার মানসম্মতভাবে না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ রুটিতে পোকা পাওয়া যাচ্ছে, ডিমে দুর্গন্ধ রয়েছে এবং কলা অতিরিক্ত পাকা বা অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় বিতরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
কাঞ্চন পৌরসভার বিরাবো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কেন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত খাবার না পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে মাঝে মাঝে খাবার বিতরণ বন্ধ থাকার কথাও জানা গেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, কিছু বিদ্যালয়ে সামান্য সমস্যা হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে খাবার সংগ্রহের কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সমস্যা থাকবে না বলেও তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, যা তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারাও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিরাবো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রওশন আরা বেগম বলেন, বাসি ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার বিতরণ দুঃখজনক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
সাব ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম প্রিন্স দাবি করেন, প্রতিদিনই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
রূপগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহরুক জাবীন জানান, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন। জ্বালানি সংকটের কারণে পুরোপুরি খাবার সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। যতটুকু সরবরাহ করা হচ্ছে, তার বিল পরিশোধ করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচিতে ঠিকাদাররা খাবার সরবরাহ করে থাকে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





