ভারতের লখনউয়ে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ১২ বছর বয়সী উনাইজ খানের মৃত্যু পুরো শহরকে স্তম্ভিত করেছে। সহপাঠীর পার্টিতে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি লাগার ঘটনায় স্থানীয় নাগরিক সমাজ এখন বিচারের দাবি জানাচ্ছে।


ঘটনার দিন, ২ মার্চ, কৃষ্ণা নগরের একটি আবাসন কমপ্লেক্সে সপ্তম শ্রেণির উনাইজ খান সহপাঠী নবনীতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যায়। পরিবারের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও রোজা রেখেও উনাইজ বন্ধুদের সঙ্গে উপস্থিত হন। কিন্তু সন্ধ্যার আগেই খবর আসে, কপালে গুলি লেগেছে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা। পার্টিতে উপস্থিত নাবালকরা একটি লাইসেন্সধারী রিভলভার নিয়ে খেলছিলেন, যেটি ভুলবশত গুলি ছুঁড়ে উনাইজের মাথায় লাগে। এ ঘটনায় তিন নাবালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে, এবং মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে নিহতের পরিবার পুলিশের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা অভিযোগ করছেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিবার প্রশ্ন তুলেছে, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে সরাসরি কপালে গুলি লাগার ঘটনা কীভাবে দুর্ঘটনা হতে পারে। তারা বলছেন, উনাইজকে পূর্বশত্রুতির কারণে বা প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে আনা হয়েছিল।

নিহতের বাবা জমির খান প্রশাসনের প্রতি সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, \"যদি ঘটনা উল্টো হতো, অর্থাৎ ভুক্তভোগী অন্য ধর্মের হতো, প্রশাসন ইতোমধ্যেই বুলডোজার নামিয়ে দিত। আমাদের বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এখন বিচার পাওয়ার জন্য আমরা বারবার দ্বারস্থ হচ্ছি।\"

তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে কারণ অভিযুক্তদের পরিবারের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা হতে পারে।

লখনউয়ের রাস্তায় সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন নেমে এসেছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার দাবি জানাতে। তারা মনে করছেন, শিশুদের নাগালের মধ্যে লাইসেন্সধারী অস্ত্র রাখা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং সংখ্যালঘু ভুক্তভোগীদের সঙ্গে প্রশাসনের দ্বিমুখী আচরণ দেশের আইনি কাঠামোর জন্য উদ্বেগজনক।

এখন পুরো দেশ ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায়। উনাইজ খানের পরিবার সরকারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ার আশায় প্রহর গুনছে।