রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই বরকতময় মাসের শেষ দশকের একটি বিশেষ রাত হলো শবে কদর বা লাইলাতুল কদর। এই রাতের মর্যাদা ও ফজিলত এত বেশি যে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এই রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে ঘোষণা করেছেন। তাই মুসলমানদের জন্য এই রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ।


কুরআনে শবে কদরের বর্ণনা

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন—


إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ ۝ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ


অর্থঃ

“নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি শবে কদরের রাতে।

আর তুমি কি জানো শবে কদর কী?

শবে কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।”

কুরআন  সূরা আল-কদর (৯৭:১–৩)


এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, এই রাতের ইবাদত প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি মর্যাদাসম্পন্ন।


ফেরেশতাদের অবতরণ

পবিত্র কুরআনে আরও বলা হয়েছে—


تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ


অর্থঃ

“এই রাতে ফেরেশতাগণ এবং রূহ (হযরত জিবরাইল আ.) তাদের প্রতিপালকের অনুমতিতে প্রত্যেক কল্যাণের বিষয় নিয়ে অবতীর্ণ হন।”

কুরআন  সূরা আল-কদর (৯৭:৪)


অর্থাৎ এই রাত রহমত, বরকত ও শান্তিতে পরিপূর্ণ।


হাদিসে শবে কদরের ফজিলত

মোহাম্মদ ﷺ বলেছেন—


“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় শবে কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।”সহি আল বুখারী, হাদিস: ১৯০১; সহি মুসলিম 


এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, এই রাতে আন্তরিকভাবে ইবাদত করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন।


শবে কদর কোন রাতে

হাদিসে এসেছে—


“তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর অনুসন্ধান কর।”

সহি বুখারী


অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের রাতগুলোতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদত করা সুন্নত।


শবে কদরের বিশেষ দোয়া

আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি জিজ্ঞাসা করেন—

“হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি শবে কদর পাই, তখন কী দোয়া পড়ব?”


তখন রাসূল ﷺ বলেন—


اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي


অর্থঃ

“হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।”

— তিরমিযি


উপসংহার

শবে কদর মুসলমানদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহা নেয়ামত। এই রাতে বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফার করা উচিত। কারণ এই রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত এই রাতের মর্যাদা উপলব্ধি করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা।

লেখক , মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ সাহেব।


\r\n\r\n\r\n