জাবি প্রতিনিধি : গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত শেখ হাসিনার বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মশাল মিছিল বের করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি ।
আজ রবিবার (১৬ নভেম্বর), রাত সাড়ে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে একটি মশাল মিছিল বের করে সংগঠনটি। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ \"অদম্য ২৪\" এর সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে তাদের ‘শেখ হাসিনার গদিতে, ‘খুনী হাসিনার গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’ ‘খুনি হাসিনার শাস্তি, দিতে হবে, দিতে হবে’ “We want Justice”, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, খুনী হাসিনার বিচার চাই” স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মিছিল শেষে অদম্য–২৪ এর সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।সমাবেশে সংহতি জানিয়ে যোগ দেয় জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাবি শাখা, আধিপত্যবিরোধী মঞ্চ, এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন (ইমন–তানজিম), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ।
এ সময় শাখা ছাত্রশক্তির জাবি শাখার যুগ্ম আহবায়ক জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মমভাবে গণহত্যা চালানো হয়েছিল। সেই গণহত্যার সুস্পষ্টভাবে নির্দেশদাতা ছিল তৎকালীন সরকার, স্বৈরশাসক এবং গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা। যিনি এখন ভারতে কোনো এক গর্তে লুকিয়ে আছেন। অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এই গণহত্যাকারীদের সাথে যারাই জড়িত ছিল তাদের বিচারকার্য পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছিল। যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং গণহত্যাকারী এবং মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত তাদের বিচার নিশ্চিত করে।
যারা এই গণহত্যার শিকার হয়েছে, নিপীড়িত হয়েছে, সেই গণহত্যার শিকার হওয়া এবং গত পনেরো বছর গুম, খুনের শিকার হওয়া পরিবারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয় এবং যেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামীকাল রায় ঘোষণা করা হবে। খুনি হাসিনাকে দেশে এনে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদের সভাপতি জাহিদ হাসান ইমন বলেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের যে চাওয়া শেখ হাসিনা পালানোর দেড় বছর পর সেটা পূর্ণ হতে যাচ্ছে তার বিচার হতে যাচ্ছে। তার বিচারের যে রায় সেটা আগামীকাল হতে যাচ্ছে। আমরা এই খুনি রক্তক্ষেকো রাষ্ট্রপ্রধান সাবেক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ বিচারের দাবি জানিয়ে যাচ্ছি যাতে করে কোনরকম তালবাহানা করে তাকে তার বিচারের ক্ষেত্রে নূন্যতম যে ছাড় সে ছাড়টুকু যেন সে না পায়।
এরপর সমাপনী বক্তব্যে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদ হাসান ইমন বলেন, “খুনি হাসিনা বিগত বছরগুলোতে তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য এদেশে গুম, খুন ও ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। সে ভেবেছিল এ দেশটা তার বাবার। আমরা বলতে চাই এই দেশটা কারো বাবার না।আমরা মনে করি প্রত্যেকটি ফিরাউনের জন্য একেকটি মুসা আসে। শেখ হাসিনার মতো ফিরাউনের জন্য ২৪ এর ছাত্র জনতাই ছিল সেই মুসা। কালকে শেখ হাসিনা যথোপযুক্ত বিচারের মাধ্যমে শেখ হাসিনা এদেশে যে বিচারবহির্ভূত, সংবিধানবহির্ভূত যেসব শাস্তির অনুষ্ঠান শুরু করেছিল সেখানে সংবিধান প্রয়োগ করে তাকে দেশে এনে তাকে বিচার করতে হবে এবং ২৪ এর গনঅভ্যুত্থানকে পুর্নতা দেওয়া হবে।





