ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনা নিরসনে ওয়াশিংটনের দেওয়া ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে ঘিরে তেহরানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) হোয়াইট হাউস সতর্ক করে জানায়, এই প্রস্তাব গ্রহণ না করলে ইরানকে আরও কঠোর সামরিক আঘাতের মুখে পড়তে হতে পারে।


ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত হবে শুধুমাত্র তেহরানের শর্ত ও সময়সূচি অনুযায়ী। অন্যদিকে আরেক ইরানি কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রস্তাবটি এখনো পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে, যদিও প্রাথমিকভাবে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনে আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।


মার্কিন পরিকল্পনায় ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর বিপরীতে ইরান কয়েকটি শর্ত দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের অধিকার স্বীকৃতি, ইরান ও মিত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ, ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা। পাশাপাশি অঞ্চল থেকে মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার এবং সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান সরাসরি আলোচনার সমান নয়। তার ভাষায়, বর্তমান নীতি হলো প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া এবং এখন আলোচনা মানে দুর্বলতা প্রকাশ করা।


তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আলোচনা এখনো চলমান এবং ফলপ্রসূ। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, আলোচনার অগ্রগতির কারণে সম্ভাব্য কিছু সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরান যদি পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে ইসরায়েল। দেশটি আশঙ্কা করছে, হঠাৎ কোনো সমঝোতা হলে তাদের চলমান সামরিক অভিযান অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে। এ কারণে ইসরায়েলি বাহিনী হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে এবং সম্ভাব্য দ্রুত সমাপ্তির কথা মাথায় রেখে নতুন করে লক্ষ্য নির্ধারণ করছে।


আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন দেশ সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।


ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে উভয় পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, যা পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।


বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত এমনকি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।