জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। এতে জোটভিত্তিক সমঝোতা, বিশেষ করে আসন ভাগাভাগি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।


\r\n

দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে জানান, বিকেল ৩টায় পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।


\r\n

দলের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা, ইসলামপন্থী দলগুলোর ঐক্যের অগ্রগতি, একবক্স নীতির বর্তমান অবস্থা, আসন সমঝোতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হবে।


\r\n

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে একবক্স নীতির ভিত্তিতে যে সমঝোতার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা জনমনে প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তিনি স্বীকার করেন, চলমান আলোচনায় কিছু অস্বস্তি থাকলেও আসন সমঝোতা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আসেনি। বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনার পর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।


\r\n

অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই বৃহস্পতিবার রাতেই সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ওই সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিকভাবে জোটভুক্ত দলগুলোর আসন ভাগাভাগি চিত্র প্রকাশ করা হয়।


\r\n

জোটভুক্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি আসনে নির্বাচন করবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি পাবে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, এলডিপি ৭টি, এবি পার্টি ৩টি, বিডিপি ২টি এবং নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে কয়েকটি আসন নিয়ে এখনও জটিলতা রয়ে গেছে।


\r\n

সংবাদ সম্মেলনে জোটভুক্ত দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন- ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।


\r\n

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ছাড়া জোটভুক্ত বাকি ১০ দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই মূলত আসন সমঝোতার খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।