মাঠে দলের সঙ্গে ছিলেন, অনুশীলনও করিয়েছেন। টসের পর অপেক্ষা ছিল ম্যাচ শুরুর। ঠিক তখনই নেমে আসে শোকের ছায়া। হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলম জাকি। ম্যাচ শুরুর মাত্র ২০ মিনিট আগে কোচকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে শোককে শক্তিতে পরিণত করল ঢাকা। রাজশাহীর বিপক্ষে ৫ উইকেটের জয় তুলে নিল দলটি।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ২০ ওভারে ৮ উইকেটে তোলে ১৩২ রান। জবাবে ৭ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ঢাকা ক্যাপিটালস। আগের ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরিতে সিলেটকে হারিয়ে ভালো শুরু পাওয়া রাজশাহী এবার থেমে যায় ঢাকার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে।

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুটা ভালো হয়নি ঢাকার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আউট হন সাইফ হাসান, করেন ৪ বলে ১ রান। আরেক ওপেনার উসমান খান ১৫ বলে ১৪ রান করে ফিরেন। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের ব্যাট থেকেও আসে মাত্র ১২ রান। টপ অর্ডারে সবচেয়ে কার্যকর ইনিংসটি খেলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। ৩৮ বলে ৪৫ রান করে তিনি ছিলেন দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। নাসির হোসেন যোগ করেন ১৯ রান।

শেষদিকে নেমে ঝড় তোলেন সাব্বির রহমান রুম্মন। শামিম হোসেন পাটোয়ারিকে সঙ্গে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন তিনি। শামিম ১৩ বলে ১৭ এবং সাব্বির ১০ বলে ২১ রান করে অপরাজিত থাকেন। রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন মোহাম্মদ নেওয়াজ। তানজিম হাসান সাকিব ও সন্দীপ লামিচানে নেন একটি করে উইকেট।

এর আগে টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাট করতে পাঠান ঢাকা অধিনায়ক মিঠুন। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নেমেই ধাক্কা খায় রাজশাহী। ইনিংসের প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাক খেয়ে ফেরেন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা সামাল দিলেও বড় জুটি হয়নি। তানজিদ করেন ২০ রান, শান্ত থামেন ৩৭ রানে। এছাড়া নেওয়াজ ২৬ ও মুশফিকুর রহীম ২৪ রান করেন।

লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতায় শেষ পাঁচ ওভারে আসে মাত্র ২৬ রান। তাতেই মাঝারি স্কোরে থেমে যায় রাজশাহীর ইনিংস। ঢাকার হয়ে ইমাদ ওয়াসিম ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। ৪ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। নাসির হোসেন নেন ২টি, আর বাকি উইকেটগুলো ভাগ করে নেন অন্য বোলাররা।