বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারের। এবার নিজ দেশ ব্রাজিলের এক সাংবাদিকের মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। হুইস্কি, এনার্জি ড্রিংক এবং রাতভর ভিডিও গেম খেলার অভ্যাসের অভিযোগে নেইমারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান ওই সাংবাদিক। তবে এবার চুপ থাকেননি নেইমার— সরাসরি মামলা করেছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত সাংবাদিক রদলফো গোমেসের ইউটিউব চ্যানেল ‘ফুটেবোটেকো’ থেকে। সেখানে তিনি দাবি করেন, নেইমার হুইস্কি ও এনার্জি ড্রিংকে আসক্ত, শীশা খান এবং সাধারণত ভোর ৪টা-৫টার আগে ঘুমান না। এই অভ্যাসের কারণে সান্তোস ক্লাবকে নাকি তাদের অনুশীলনের সময়সূচিও পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এমনকি ক্লাবের নতুন কোচ হুয়ান পাবলো ভোজভোদা ইচ্ছাকৃতভাবে সকালবেলা অনুশীলনের সময় নির্ধারণ করছেন, যেন নেইমারের সমস্যাগুলো প্রকাশ্যে আসে।
নেইমারের প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান এনআর স্পোর্টস এসব অভিযোগকে ‘বেপরোয়া, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর’ বলে মন্তব্য করেছে। তারা জানিয়েছে, এই অভিযোগের বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি— উভয় ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তবে নেইমার নিজে পুরো বিষয়টিকে একপ্রকার ঠাট্টার চোখেই দেখেছেন। ইনস্টাগ্রামে একটি এনার্জি ড্রিংকের ক্যানের ছবি পোস্ট করে মজা করে লেখেন, “রেড বুলে আসক্ত। দারুণ এক জিনিস।”
বর্তমানে ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে আছেন ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। চলতি মাসে সান্তোসের অনুশীলনে চোট পেয়ে তার কোয়াড্রিসেপসে গ্রেড-টু টিয়ার ধরা পড়ে, যার ফলে নভেম্বর পর্যন্ত খেলায় ফেরা হচ্ছে না।
এর আগেও নেইমারের ইনজুরি ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ— পিএসজিতে পা ভাঙা, গোড়ালির লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া, আল-হিলালে থাকা অবস্থায় হাঁটুর গুরুতর চোট এবং সান্তোসে ফেরার পর একের পর এক মাংসপেশির ইনজুরি ভোগাচ্ছে তাকে।
ক্লাব ক্যারিয়ারের হতাশাজনক এই সময়ের মধ্যেই গত আগস্টে আরেক দুঃসহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন নেইমার। ৬-০ গোলে হারের পর উত্তেজিত সান্তোস সমর্থকরা অনুশীলন মাঠে খেলোয়াড়দের ঘিরে ধরেন। সে সময় আবেগে ভেঙে পড়েন নেইমার, প্রকাশ্যে কান্না করতে দেখা যায় তাকে। পরে বলেন, “আমি লজ্জিত। সমর্থকদের রাগের জায়গা আছে, তবে এটা ছিল একেবারেই হৃদয়বিদারক।”
জাতীয় দলেও দীর্ঘদিন অনুপস্থিত তিনি। ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যান নেইমার, যার ফলে প্রায় এক বছরের জন্য জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়েন। তবে ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি আশাবাদী, নেইমার যদি পুরোপুরি ফিট থাকেন, তাহলে আগামী বিশ্বকাপে তিনি হবেন দলের অপরিহার্য অংশ।





