সাভার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী দিলশানা পারুল বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি সাভার-আশুলিয়াকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলবেন।
তিনি বলেন, “সাভার-আশুলিয়ায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নির্বাচিত হলে এসব অপরাধ নির্মূলে আমি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব।”
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এই প্রার্থী এসব কথা বলেন।
দিলশানা পারুল বলেন, “সাভারের ডাম্পিং স্টেশন নিয়ে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “এ অঞ্চলে নারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। সেই বিবেচনায় নারীদের মাতৃত্বকালীন ব্যয় সম্পূর্ণভাবে সরকারিভাবে বহনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” পাশাপাশি শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত এই আসনের নারী শ্রমিকদের জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সর্বোপরি সাভার-আশুলিয়াবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এ আসনকে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীবান্ধব এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এনসিপি প্রার্থী।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি দলীয় নেতা-কর্মীদের আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছি।”
গণভোট বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলশানা পারুল বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের জোটের সিদ্ধান্ত সুস্পষ্ট। আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে।”
তিনি বলেন, “নিজের শাপলা কলি প্রতীকে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি।”
এসময় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন এনসিপি নেত্রী দিলশানা পারুল।
ঢাকা-১৯ আসনে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল ছাড়াও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, জাতীয় পার্টির বাহাদুর ইসলাম, গণ-অধিকার পরিষদের শেখ শওকত হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ ফারুক খান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. ইসরাফিল হোসেন সাভারী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. কামরুল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-১৯ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৩ লাখ ৬৭ হাজার ১৫১ জন এবং পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯১৯ জন। এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ২৭৮টি।