সিরিয়ার ওপর দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার এক নির্বাহী আদেশে তিনি এ সিদ্ধান্ত দেন, যার ফলে দেশটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনর্গঠনের পথ উন্মুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের নির্দেশের ফলে সিরিয়ার উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পুনর্গঠনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞার আওতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে।

সিরিয়ায় এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশটির অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়। বাশার আল-আসাদের নেতৃত্বাধীন সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন, যুদ্ধাপরাধসহ নানা অভিযোগে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহী বাহিনীর অভিযানে আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। নতুন শাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন বিদ্রোহী নেতা আহমেদ আল-শারা।

সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি সিরিয়াকে সমর্থন করে, যা স্থিতিশীল, ঐক্যবদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথে চলবে। এমন একটি রাষ্ট্র যা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য আশ্রয়স্থল হবে না এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করবে।”

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন জানিয়েছে, সিরিয়ার ওপর থেকে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও বাশার আল-আসাদ, আইএসআইএস, ইরান ও তাদের মিত্রদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো বহাল থাকবে।

এছাড়া, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে নির্দেশ দিয়েছেন—আহমেদ আল-শারা ও তাঁর নেতৃত্বাধীন সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শামের (HTS) বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনা করতে। উল্লেখ্য, আল-শারা অতীতে আল-কায়েদার সিরিয়া শাখা আল-নুসরা ফ্রন্টের নেতা ছিলেন। ২০১৬ সালে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে HTS গঠন করেন।

আল-শারা বর্তমানে ইদলিব অঞ্চলে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই আসাদ সরকারকে হটিয়ে বিদ্রোহীরা দখল প্রতিষ্ঠা করে। গত মে মাসে সৌদি আরবে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। ট্রাম্প তাঁকে \"আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব\" ও \"দৃঢ় নেতৃত্বের অধিকারী\" হিসেবে বর্ণনা করেন।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট নেত্রী ইলহান ওমর ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা আনা পলিনা লুনা একটি বিল উত্থাপন করেন। এই বিলটি সিরিয়ার ওপর থেকে দীর্ঘমেয়াদে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আইনি ভিত্তি তৈরি করে।

তবে কিছু মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ জানিয়েছে, নতুন সরকারের সময়ও আলাউতি সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। বাশার আল-আসাদ ছিলেন এই সম্প্রদায়ের সদস্য।

প্রেসিডেন্ট আল-শারা আশ্বস্ত করেছেন, সিরিয়া এখন তার প্রতিবেশী বা গোলান মালভূমির নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল থেকেও কোনো হুমকি হয়ে উঠবে না। তিনি বলেন, “আমরা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। সিরিয়া আর কারও জন্য হুমকি নয়।”

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫১৮ সিরীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে সিজার অ্যাক্টের আওতায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের আগে তা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।