চলমান রাজনৈতিক সংকট ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন গণআন্দোলনভিত্তিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী ও সরকার মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে এবং \"করিডোর\" ইস্যুকে সামনে এনে সেনাবাহিনী স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করছে।
\r\nহাদি অভিযোগ করেন, সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক কার্যকলাপ এবং সেনাপ্রধানের বক্তব্য একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী চায় এই বক্তব্যগুলো সামনে আসুক, আর এটাই প্রমাণ করে—সরকার ও সেনাবাহিনী এখন মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।”
\r\nতিনি দাবি করেন, “জুলাইয়ের গণআন্দোলনের পক্ষে সেনাবাহিনীর অবস্থান ইতিবাচক হলেও এর পেছনে রয়েছে বাস্তবিক চাপ এবং নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার প্রয়াস।” হাদি বলেন, সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন এবং এখন তারা একপ্রকার বাধ্য হয়ে জনতার পাশে দাঁড়িয়েছেন।
\r\nসংবাদ সম্মেলনে হাদি অভিযোগ করেন, সেনাবাহিনী একটি নতুন ধরনের \"এক-এগারো\" পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, “যে কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসুক না কেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে বোঝাপড়া করেই আসতে হবে—এটা পাকিস্তান মডেলের মতো।”
\r\nএই অবস্থাকে গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের যাত্রাপথে এটি বড় হুমকি এবং দেশের জনগণ এটি মেনে নেবে না।”
\r\nসরকারের প্রতি সমালোচনা করে হাদি বলেন, “জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার, মৌলিক সংস্কার এবং দ্রুত নির্বাচন—এই তিনটি কাজ সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা করিডোর এবং খাল খননের মতো বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থেকেছে।”
\r\nএকইসঙ্গে বিএনপিকেও দায়ী করেন তিনি। হাদির মতে, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রধান দল হওয়া সত্ত্বেও বিএনপি রাজনৈতিকভাবে July আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়নি। তারা শুধু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে কিন্তু সংস্কার ও বিচারের প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি।”
\r\nতিনি বলেন, “আজ যারা বিএনপি করেন না, কিন্তু শহীদ জিয়াকে ভালোবাসেন, তারাও বিএনপির পক্ষে দাঁড়াতে পারছেন না। কারণ বিএনপি বিচারের কথা না বলে শুধু নির্বাচনের কথা বলছে।”
\r\nহাদি দাবি করেন, সরকারের উপদেষ্টাদের একটি অংশ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার পাঁয়তারা করছে এবং এই প্রক্রিয়ায় তারা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ইমেজকে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, “ড. ইউনূস নিজে বলেছেন, জুনের পরে তার ক্ষমতায় থাকার কোনো আগ্রহ নেই। অথচ উপদেষ্টারা পাঁচ বছর পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছেন।”
\r\nশরীফ ওসমান বিন হাদি তার বক্তব্যে সেনাবাহিনী, সরকার এবং বিএনপির ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন এবং বলেন, যদি জুলাই আন্দোলন ব্যর্থ হয়, তার দায় নিতে হবে রাজনৈতিক দল এবং সেনাবাহিনী—উভয়কেই। তিনি সবাইকে আহ্বান জানান, “নতুন জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন আছে, আর সেটা গড়ে তুলতে হলে সবাইকে নিজের ভুল স্বীকার করে এগিয়ে আসতে হবে।”





