পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের আগে আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর সদস্যদের নিয়ে একাধিক গোপন বৈঠক হয়েছিল বলে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কমিশনের কাছে দেওয়া ৩০ নম্বর কয়েদি সাক্ষীর জবানবন্দি এবং অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণে এ তথ্য পাওয়া যায়।
সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, নায়েক শহীদুর রহমান তাঁর ঘনিষ্ঠ তোরাব আলীর বরাতে জানান, তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ ও শেখ ফজলুল করিম সেলিমের উপস্থিতিতে র-এর ২৪ সদস্যের একটি দল বিডিআরের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করে। ওই বৈঠকের পর পুরো পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। পরে পরিকল্পনা সমন্বয়ের জন্য শেখ ফজলে নূর তাপসের বাসায় আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজম, শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ সেলিম, লেদার লিটন ও তোরাব আলী। বৈঠকে সেনা অফিসারদের হত্যার কথা জানানো হলে তোরাব আলী আপত্তি করেন। জবানবন্দি অনুযায়ী, তখন শেখ সেলিম তাঁকে ‘মুরব্বি’ সম্বোধন করে জানান, তাঁর আর এতে থাকার প্রয়োজন নেই, তাঁর ছেলে লেদার লিটন থাকলেই যথেষ্ট।
প্রায় ১১ মাস তদন্ত শেষে গত রোববার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া কমিশনের ৩৬০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপসের বাসায় একাধিক বৈঠকে অফিসারদের প্রথমে জিম্মি করার পরিকল্পনা করা হলেও পরে তা পরিবর্তন করে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানক, মির্জা আজম, লেদার লিটন ও তোরাব আলী নিয়মিত বৈঠকে অংশ নেন। কমিশনের মতে, এসব বিষয়ে ৪৪ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিও কর্নেল শামস অবগত ছিলেন। তাপসকে হত্যাকাণ্ডের পর সংশ্লিষ্টদের নিরাপদে বের করে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে, সাক্ষী ৯৫-এর জবানবন্দিতে মেজর (অব.) নাসির উদ্দিনের ২০০৮ সালে ভারতীয় হাইকমিশনে একাধিক বৈঠকের কথাও উঠে এসেছে। সেখানে ভারতীয় কূটনীতিক নিরাজ শ্রীবাস্তব তাঁকে জানান, পদুয়া সীমান্তে বিডিআরের হাতে বিএসএফ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ‘অমার্জনীয়’ এবং এর প্রতিক্রিয়া হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিরাজ শ্রীবাস্তব ২০০৬ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বাংলাদেশে মন্ত্রী পদে দায়িত্বে ছিলেন।
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় সংঘটিত এ ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।





