পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামো চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান।
‘জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস’ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানান ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
তিনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উপস্থিতি বা হস্তক্ষেপ থাকবে না। তবে এই নতুন কাঠামো কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই এই অবস্থান সামনে আনল তেহরান।
গালিবাফ তার বক্তব্যে ১৬২২ সালে পারস্য উপসাগর থেকে ইউরোপীয় শক্তিগুলোকে বিতাড়নের ঐতিহাসিক ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের জলপথ নিয়ন্ত্রণে ইরানের অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে।
এর আগে গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি ঘিরে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন। এর পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। পরে ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য এখনো কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
যুদ্ধবিরতির পর ইরান প্রাথমিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেও সাম্প্রতিক নৌ-অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় আবারও নৌ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের এই নতুন পরিকল্পনা কি অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়াবে?





