হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখীই থাকতে পারে। এমনকি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সোমবার বলেছেন। ওয়াশিংটন ডিসিতে সেমাফর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানির দাম বেশিই থাকবে, এমনকি আরও বাড়তেও পারে।’
তিনি বলেন, এই সময়েই সম্ভবত তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। সেটা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটতে পারে’। তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শেষ হওয়ার পর জ্বালানি সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হলে তেলের দামের ওপর নিম্নমুখী চাপ তৈরি হবে। তবে এতে কিছুটা সময় লাগবে।’
রাইট বলেন, এই পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে দাম বাড়বে এটা প্রেসিডেন্ট আগে থেকেই জানতেন’। তিনি আরও বলেন, দ্রুত দাম কমে যাবে এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
তার ভাষায়, ‘গ্রীষ্মের মধ্যেই দাম কমে যাবে— এটা খুবই আশাবাদী হওয়ার মতো সময়সীমা’। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও দাম কমতে সময় লাগবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেহরান অধিকাংশ বিদেশি জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে আসা সব জাহাজের ক্ষেত্রে এই অবরোধ কার্যকর করা হবে।





