ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক সৈয়দ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি। হাদিশূন্য বসতভিটায় ভিড় করছেন স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে শোকের মাতম চলছে তার শ্বশুরবাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জেও। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখার অপেক্ষায় আছেন গ্রামবাসী।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জীবদ্দশায় হাদির ইচ্ছা ছিল তাকে যেন তার বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হয়। তবে দাফনের স্থান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। নিহত হাদির ভগ্নিপতি আমীর হোসেন চ্যানেল ২৪-কে বলেন, হাদি বারবার বলতেন, বাবার পাশেই যেন তাকে কবর দেওয়া হয়।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খাসমহল পৌর এলাকায় একটি টিনশেড ঘরেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা সৈয়দ শরীফ ওসমান হাদির। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের এই ঘরটিই ছিল তার শৈশবের ঠিকানা। আজ সেই ঘরে হাদি যেন কেবলই স্মৃতি ও ছবি। গুলিতে নিহত হওয়ার পর তার জন্মভূমি জুড়ে নেমে এসেছে গভীর শূন্যতা।

১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া হাদি ছিলেন বাবা মাওলানা আবদুল হাদি ও মা তাসলিমা হাদির ছয় সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। এলাকাবাসী জানান, শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন প্রতিবাদী ও স্পষ্টভাষী। নেছারাবাদ এনএস কামিল মাদরাসা থেকে দাখিল ও আলিম শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

স্বজনদের কাছে যেমন, তেমনি গ্রামবাসীর কাছেও হাদি কেবল একটি নাম নয়। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আন্দোলনের এক পরিচিত মুখ। তার এমন মৃত্যু কেউই মেনে নিতে পারছেন না। কেউ নীরবে চোখের জল ফেলছেন, কেউ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই হাদির বাড়ির সামনে ভিড় করছেন পরিচিত ও অপরিচিত মানুষ। বাড়িতে থাকা তার বোন ও বোনের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকেই। কেউ স্মৃতিচারণ করছেন, আবার কেউ হাদি হত্যার বিচার দাবি করছেন।

এদিকে, বরিশালের বাবুগঞ্জে হাদির শ্বশুরবাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। অল্প বয়সে স্বামী হারানো স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে আছেন স্বজনরা। তাদের দাবি, হাদির মতো আর কোনো পরিবারের কোল যেন এভাবে খালি না হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনি প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হন সৈয়দ শরীফ ওসমান হাদি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে তিনি মারা যান।