দেশে হাম আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও, হামের পরবর্তী জটিলতায় শিশুমৃত্যুর হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের পর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি করছে নিউমোনিয়া।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৫৪ জনের। একই সময়ে সন্দেহভাজন মৃত্যু ২৬৩ জন। সব মিলিয়ে গত ৫১ দিনে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৩১৭ জনে।

চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুই গুরুতর অবস্থায় রয়েছে এবং তারা মূলত হামের পর নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট-এর শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, হামে আক্রান্ত অধিকাংশ শিশুই অপুষ্টিতে ভোগে এবং হামের পর তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা আরও কমে যায়। ফলে সহজেই নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। তিনি জানান, মৃত্যুর প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই নিউমোনিয়া দায়ী।

তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির কারণে অনেক শিশু নিয়মিত টিকা পায়নি, যা এই প্রাদুর্ভাবের একটি বড় কারণ।

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফায়সাল বলেন, হামের পরপরই নয়, বরং কয়েকদিন পর নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়া দেখা দেয়। সময়মতো চিকিৎসা পেলে অনেক মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতো।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, কোনো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকাদান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু ২০২৫ সালে দেশে হামের টিকাদানের হার ৬০ শতাংশেরও নিচে নেমে আসে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

বর্তমানে সরকার টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, হামের পর অন্তত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ শিশুকে বিশেষ যত্নে রাখতে হবে, পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে এবং সংক্রমণ এড়াতে আলাদা রাখা জরুরি।

এদিকে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে এখনও হাম-পরবর্তী জটিলতায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড় দেখা যাচ্ছে, যদিও আগের তুলনায় চাপ কিছুটা কমেছে। তবুও গুরুতর রোগীদের নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।