সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে ঘোষিত ৭২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। আগামী ১২ আগস্ট (মঙ্গলবার) সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে ১৫ আগস্ট (শুক্রবার) সকাল ৬টা পর্যন্ত চলার কথা ছিল এই ধর্মঘট।
রোববার (১০ আগস্ট) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে সরকারের সঙ্গে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে পরিবহন নেতারা তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে শ্রমিক নেতা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারকে জিম্মি করে কিছু আদায় করা আমাদের লক্ষ্য নয়। যুক্তিসংগত দাবিগুলোর বিষয়ে একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তাই আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করছি।”
সরকারের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা জানান, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবিগুলো যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করে বাস্তবায়নের জন্য পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে আট দফা দাবিতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো ১২ আগস্ট থেকে ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছিল।
সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৯৮ ও ১০৫ ধারা সংশোধনসহ আরও কিছু ধারা পুনর্বিবেচনা, বাণিজ্যিক যানবাহনের ইকোনমিক লাইফ ২০/২৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করা, সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ২০ ও ২৫ বছরের পুরনো গাড়ির বিরুদ্ধে বিআরটিএ’র অভিযান স্থগিত রাখা, দ্বিগুণ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করে আগের হার পুনর্বহাল, রিকন্ডিশন্ড বাণিজ্যিক গাড়ি আমদানির মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১২ বছর করা, দুর্ঘটনায় জব্দকৃত গাড়ি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মালিকের জিম্মায় ফেরত দেওয়ার বিধান বাস্তবায়ন, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের জন্য স্ক্র্যাপ নীতিমালা প্রণয়ন, মহাসড়কে অনুমোদনহীন হালকা যানবাহন, টেম্পো ও অটোরিকশা পৃথক লেনে চালানোর ব্যবস্থা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স দ্রুত সরবরাহ ও শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা বাস্তবায়ন
সরকার ও মালিক-শ্রমিক পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে ধর্মঘট প্রত্যাহার করায় সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে জনপরিবহনে। এখন দেখার বিষয়, দাবিগুলোর বাস্তবায়ন কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে হয়।






