চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিক্ষককে শারীরিক হেনস্তার মাধ্যমে প্রায় ৯ ঘণ্টা প্রক্টর ও সহ-উপাচার্যের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে তাকে মুক্তি দিয়ে প্রক্টরের গাড়িতে করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সামনে চাকসুর কয়েকজন নেতা ওই শিক্ষককে পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে তাড়া করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এ সময় তার মুঠোফোনও তল্লাশি করা হয়।
হেনস্তার শিকার শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসের আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘হলুদ দল’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে শিক্ষককে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে চাকসুর দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি এবং নির্বাহী সদস্য সোহানুর রহমানকে উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
প্রক্টর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার কথা জানতে পারেন। এরপর কেন্দ্র ত্যাগ করার সময় চাকসু নেতারা তাকে আটক করে জোরপূর্বক প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান।
এদিকে চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সহকারী প্রক্টর থাকাকালে হাসান মোহাম্মদ গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তার ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছিল।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নথিভুক্ত হয়নি। তবে চাকসু নেতারা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চবি প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানান, শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ সাবেক সহকারী প্রক্টর এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান। বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, ঘটনার সময় প্রক্টর কার্যালয়ে ওই শিক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল।





