রংপুরের ধাপ এলাকায় এক বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে সন্তান প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার (সিজার) করছিলেন প্রশান্ত নামের এক যুবক, যিনি কেবল অষ্টম শ্রেণি পাশ করেছেন। ঘটনার সময় জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরেন। পরে পালানোর চেষ্টা করেও রক্ষা পাননি যুবককে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অভিযানে ধরা পড়ে, ওই হাসপাতালের মালিক সামসুদ তিবরীজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সিভিল সার্জন জানান, অভিযুক্ত প্রশান্ত পাঁচ বছর ধরে হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন করেনি এবং বৈধ কোনো পরিবেশ ছাড়পত্র বা কাগজপত্রও ছিল না। তবুও হাসপাতালটিতে জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা ও অপারেশন চলছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত যুবক বোরকা পরে হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, তবে দুই ঘণ্টা টয়লেটে লুকিয়ে থাকার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। ওই হাসপাতাল থেকে এক প্রসূতি নারীকে উদ্ধার করা হয়, যাঁর সন্তান জন্মদানে প্রস্তুত করা হচ্ছিল। সিভিল সার্জন বলেন, “যুবক প্রথমে নিজেকে চিকিৎসক দাবি করেন, পরে স্বীকার করেন যে তিনি চিকিৎসক নন, কেবল অষ্টম শ্রেণি পাশ।”

এই ঘটনায় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তৎপরতা হাসপাতালে অবৈধ চিকিৎসা ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করেছে।