দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের মাঝে রাখাইনে ‘মানবিক করিডোর’ এবং চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হস্তান্তরের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ, এই দেশকে যুদ্ধের পথে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

\r\n

বৃহস্পতিবার (২২ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। এই সমাবেশের আয়োজন করা হয় রাখাইনে মানবিক করিডোর এবং চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের দেওয়ার ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে।

\r\n

ড. মোহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “আমি তাকে অনুরোধ করবো—এদিকে (মানবিক করিডোর) না এগিয়ে বরং কীভাবে বাংলাদেশকে রক্ষা করা যায়, যুদ্ধমুক্ত রাখা যায়, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা যায়, সে ব্যাপারে মনোযোগ দিন। ১৫-১৬ বছর ধরে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি, মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আজকের তরুণরাও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত।”

\r\n

তিনি আরও বলেন, “বন্দরের বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সহকারী যিনি আছেন, তিনি বলেছেন—কারো সঙ্গে আলোচনা করার প্রয়োজন নেই। তার এই বক্তব্য দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

\r\n

ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি দুদু বলেন, “বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী, রেগুলার বা নির্বাচিত সরকার নয়। নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরই তাদের কাজ। অনেক উপদেষ্টা বলেছেন তারা নির্বাচিত, কিন্তু সেটি আত্মপ্রতারণা ছাড়া কিছু নয়।”

\r\n

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দেশের প্রতিষ্ঠা ও মুক্তিযুদ্ধে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষক, শ্রমিক এবং তরুণরাই মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। “তাদের অবহেলা করা উচিত নয়,” বলেন তিনি।

\r\n

প্রতিবেশী দেশের ‘ঘৃণ্য কৌশল’ এবং ‘ফ্যাসিস্টদের আশ্রয় দেওয়ার’ বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক দল ও জনগণ একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করবে।”

\r\n

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের আহ্বায়ক। আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য মো. শামিম কায়সার লিংকন, কৃষকদলের পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক রাজি, সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি এবং জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকন।