দলীয় প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ চেয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছে দুটি রাজনৈতিক দল—নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে কে আগে আবেদন করেছে, তা নিয়েই এখন শুরু হয়েছে জটিলতা ও প্রতিযোগিতা।
ইসি সূত্র জানায়, নিবন্ধনপ্রাপ্ত ও নিবন্ধন প্রত্যাশী—উভয় দলই ‘শাপলা’ প্রতীককে তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফলে নির্বাচন কমিশন কোন দলকে এই প্রতীক বরাদ্দ দেবে, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
নাগরিক ঐক্যের দপ্তর সম্পাদক মহিদুজ্জামান মহিদ বলেন, “আমরা ১৭ জুন কমিশনে গিয়ে আমাদের পুরোনো প্রতীক ‘কেটলি’ পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছি। নতুন করে ‘শাপলা’ বা ‘দোয়েল’ প্রতীক চেয়েছি। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এগুলো জাতীয় প্রতীক হওয়ায় এখনই বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে প্রতীক সংযোজনের প্রক্রিয়া শুরু হলে আমাদের আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরাই প্রথমে আবেদন করেছি। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের উচিত আমাদের আবেদনকে প্রাধান্য দেওয়া।”
অন্যদিকে, নতুন দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২২ জুন ‘শাপলা’, ‘কলম’ ও ‘মোবাইল’ প্রতীক চেয়ে আবেদন করে। দলটির আহ্বায়ক জানান, “আমাদের প্রথম পছন্দ ‘শাপলা’। এটি জনগণের প্রতীক, গণঅভ্যুত্থানের প্রতীক, গ্রামীণ জীবনের প্রতীক—আমরা এই প্রতীক নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাই।”
শাপলা প্রতীক চাওয়ার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, “জাতীয় ফল কাঁঠাল যেমন একটি দলের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তেমনি শাপলাও হতে পারে। জাতীয় প্রতীক মানেই যে রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহার নিষিদ্ধ, এমন কোনো আইন নেই। তার ওপর, জাতীয় প্রতীকে শুধু শাপলা নয়, ধানের শীষ, পাটপাতা ও তারকা রয়েছে। অথচ এর সবকটিই ইতিমধ্যে বিভিন্ন দলের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”
এখন সবদিক বিবেচনায় ইসির ওপর নির্ভর করছে, ‘শাপলা’ প্রতীক পাবে কে। দু’পক্ষই নিজেদের দাবিকে আইনসম্মত ও যৌক্তিক দাবি করে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল।





