ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের ‘সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ’-এ অংশ নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তবে বিএনপি সেখানে উপস্থিত থাকেনি। বিএনপি আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাবেশে সংহতি জানিয়েছে।


সমাবেশটি ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রুখতে ডাকা হয়েছিল। এ উপলক্ষে সোমবার বিকেলে ঢাকার শহীদ মিনারে নেতারা বক্তব্য দেন। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করার ঘটনায় প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।


সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ওসমান হাদির ওপর হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি জুলাই বিপ্লব ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর আঘাত। নাহিদ ইসলাম আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়, মিডিয়া ও আইন অঙ্গনে যারা মুজিববাদের রাজনীতি পুনরায় শুরু করতে চাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ চলবে।


সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি খুবই সংকটময়। যদি কেউ আবার দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যারা দেশীয় রাজনৈতিক লড়াইকে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে, তাদের প্রতিও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি ভারতের উদ্দেশে বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হামলাকারীদের যদি ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রত্যর্পণ না করা হয়, তাহলে বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু হবে। তিনি দেশের সব ওয়ার্ডে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গণকমিটি’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং উপস্থিত সবাইকে শপথবাক্য পাঠ করান।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন, যার মধ্যে ছিলেন কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার, ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, আপ বাংলাদেশের সদস্যসচিব আরেফিন মোহাম্মদ ও জনতার দলের মহাসচিব আজম খান প্রমুখ।