গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের কথা বলা হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, দুইটি আসনে কোনো সমঝোতা হয়নি। সময় হলে স্পষ্ট হবে বিএনপি আমাদের কীভাবে এবং কোথায় মূল্যায়ন করে। তিনি বলেন, তারেক রহমানকে আমরা চিনি ও জানি, তিনি কথা দিলে কথা রাখেন। তাঁর সঙ্গে আমাদের কী ধরনের কমিটমেন্ট হয়েছে, তা প্রকাশ্যে বলা হবে না। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপির শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমাদের আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।


শনিবার রাত ৯টায় গলাচিপা বিএনপি কার্যালয়ে বিএনপির একাংশের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন নুরুল হক নূর। এ সময় বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে নুরুল হক নূরকে বিজয়ী করতে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।


নূর আরও বলেন, আগামীতে নির্বাচিত সরকার এলেও সেটিকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে আন্দোলনের চেষ্টা হবে। এর ফলে দেশ আবার সংকটে পড়তে পারে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের আন্দোলনের একজন সৈনিক ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর প্রতিবাদে সারাদেশে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি শীর্ষ দৈনিকের অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে কেউ কেউ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাও দিতে পারত।


তিনি বলেন, শুধু নির্বাচন হলেই সংকট কেটে যাবে না। যারা যুগপৎ আন্দোলন করেছি, আমরা আলোচনার মাধ্যমে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের যে ঘোষণা দিয়েছিলাম, আগামী পাঁচ বছরে একটি স্থিতিশীল সরকার গঠন করে সেটার বাস্তবায়ন জরুরি। দেশের উন্নয়ন, মানুষের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে নিরাপদ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।


নুরুল হক নূর বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসে দেশ পরিচালনা বা স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারবে না। ব্যক্তিগত প্রাপ্তি বা কয়টি আসন পাওয়া আমাদের কাছে মুখ্য নয়। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মানুষের ভবিষ্যৎ রক্ষাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। তাই জাতীয় স্বার্থে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামীতে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে কাজ করব।


এ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ইখতিয়ার কবির বলেন, হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে নুরুল হক নূরের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি তাঁকে সমর্থন দিয়েছে। তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, সেটি সবাইকে মানতে হবে। মনোনয়ন না পেলে কারও মন খারাপ হতেই পারে, কিন্তু উস্কানিমূলক বক্তব্য কাম্য নয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহরাব মিয়া, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা ইখতিয়ার কবির, পটুয়াখালী জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিপলু খান, গণঅধিকার পরিষদের গলাচিপা উপজেলা আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব জাকির মুন্সি, জেলা সাবেক সদস্য সচিব শাহ আলম, ছাত্র অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আবু নাঈমসহ অনেকে।