বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সভাপতি শেখ হাসিনা এবার দলীয় নেতৃত্বে তার ছেলেমেয়েকে সামনে আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। ভারতের কংগ্রেসের রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সামনে আনার ধাঁচে তিনি ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্বে আনছেন।

১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। টানা চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দলের সর্বোচ্চ পদে থাকলেও কখনো উত্তরাধিকার পরিকল্পনা প্রকাশ্যে জানাননি। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দল সংগঠনে দুর্বলতা দেখা দিলে এ বিষয়ে চাপ বাড়ে। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন এবং বয়সও ৭৮ বছরে পা দিতে যাচ্ছে।

সূত্রগুলো বলছে, জয় ইতোমধ্যেই দলের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সক্রিয়। অন্যদিকে সায়মা ওয়াজেদ মায়ের কাছাকাছি থাকায় সাংগঠনিক কাজকর্ম, বৈঠক ও ভাষণ তৈরির কাজে সরাসরি যুক্ত হচ্ছেন। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পদ থেকে ছুটিতে পাঠানোর পর তিনি রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়েছেন। শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকেও নেতৃত্বে ভূমিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরাফাত অবশ্য দাবি করেছেন, দলের ভেতরে এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তার ভাষায়, “আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। কে কোন পদে আসবেন, সেটা ভাবার সময় এখন নয়।”

বর্তমানে দল পরিচালনায় নতুন কাঠামো গড়ে উঠেছে। শেখ হাসিনা দিল্লিতে, জয় যুক্তরাষ্ট্রে এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন শীর্ষ নেতা কলকাতায় থেকে সমন্বয় করছেন। সায়মা ওয়াজেদ নিয়মিত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং করণীয় ঠিক করছেন। অন্যদিকে জয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অবস্থান তুলে ধরছেন।

এদিকে, কাগজে-কলমে সাধারণ সম্পাদক হলেও ওবায়দুল কাদের নতুন কাঠামোয় কার্যত উপেক্ষিত। প্রায় দশ মাস আগে ভারতে গেলেও তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি।

বিশেষভাবে ভরসা করা হচ্ছে তিনজনের ওপর—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক এমপি আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাসিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক। তারা কলকাতা থেকে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন।

৭৬ বছরের পুরনো আওয়ামী লীগ ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটময় সময় পার করছে। তবে দলটির নেতৃত্ব এখনও ঘুরে ফিরছে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের চারপাশেই।