মডেল ও অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে ঘিরে কয়েক দিন ধরে চলমান বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। কলকাতার ‘ভালোবাসার মরশুম’ নামের ছবিতে কাজের অগ্রিম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শরীফ খান নামের এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে ছবিটির প্রযোজক পরিচয় দেন। তাঁর দাবি, তিশার কাছে অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কিন্তু তিনি কাজ না করেই উধাও হয়েছেন।
তানজিন তিশা অবশ্য প্রথম থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর বক্তব্য, শরীফ খান ছবিটির প্রযোজক নন এবং তার সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিও হয়নি।
এবার মুখ খুললেন ছবির পরিচালক এমএন রাজ। ভারতীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, তিশা ভুল তথ্য দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, তিশাকে অগ্রিম তিনি নিজেই দিয়েছেন এবং কাজ না করায় সেই টাকা ফেরত দিতেই হবে।
এমএন রাজ বলেন, তিনি ব্যস্ত থাকায় পুরো পরিস্থিতি শুরুতে জানতেন না। কিন্তু অর্থ দেওয়া হয়েছে, তাই কাজ না করলে অন্তত কিছু অংশ ফেরত দেওয়ার দায় অভিনেত্রীরই। শর্ত এমন থাকে না বলেও মন্তব্য তার, তবে নৈতিকভাবে ফেরত দেওয়া উচিত।
পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, তিশার জন্য তারা এক মাসের মতো অপেক্ষা করেছেন। এমনকি শুটিং শিডিউল বদলাতে হয়েছে ছবির আরেক গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী শারমান যোশিরও।
তিনি বলেন, ‘তিশার জন্য শারমানের তারিখ পরিবর্তন করতে হয়েছে। কিন্তু তিশা ভিসার জন্য অ্যাম্বাসিতে সময়মতো যাননি, পাসপোর্টও জমা দেননি। পরে তিনি আমেরিকায় চলে যান।’
পরিচালক দাবি করেন, নির্ধারিত সময় সকাল ৯টায় অ্যাম্বাসিতে যাওয়ার কথা থাকলেও তিশা এক ঘণ্টা দেরিতে পৌঁছান এবং আচরণও ছিল অসহযোগিতামূলক। ভিসা স্লটে সমস্যা থাকলেও বিষয়টি সমাধান করতে তিশা তৎপর ছিলেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে তানজিন তিশা সোমবার (২৪ নভেম্বর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে অভিযোগকে ‘উল্টো নাটক’ বলেছেন। তাঁর দাবি, তিনিই নাকি দুই মাস অপেক্ষা করেছেন, অথচ পরিচালক তখনো প্রস্তুত ছিলেন না। তাই বাধ্য হয়েই তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।
এমএন রাজ আরও জানান, সেপ্টেম্বরের ১৭, ১৮ ও ১৯ তারিখ নায়িকা ছাড়াই শুটিং করতে হয়েছে। দুর্গাপূজার আগ পর্যন্ত অপেক্ষার পর অবশেষে নতুন নায়িকা নিতে বাধ্য হন। তার মতে, এখন তিশার বিবৃতিই অসঙ্গতিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর।
তিশা ও নির্মাতাদের এই দায়সারা বক্তব্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, আসলে কে সত্য বলছেন? দুই পক্ষের এই বিরোধ এখন শোবিজ অঙ্গনের আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।