ইসলামে অধীনস্থ বা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মহানবী (সা.) বারবার নির্দেশ দিয়েছেন। ধর্মীয় শিক্ষায় বলা হয়েছে, সমাজে ধনী ও গরিবের মধ্যে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সকলের প্রতি ন্যায় ও সম্মান বজায় রাখা অপরিহার্য।

বিশেষত যারা অন্যের কাছে কাজ করেন তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ বা অবহেলা ইসলামে বৈধ নয়। মহানবী (সা.) শ্রমিকদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে ও তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে সতর্ক করেছেন।

এক হাদিসে তিনি বলেছেন, “যারা তোমাদের জন্য কাজ করছে, তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীনে দিয়েছেন। তোমরা যা খাবে, তা থেকে তাদের খাওয়াবে এবং যা পরিধান করবে, তা তাদের পরিধান করতে দেবে।” (বুখারি ও মুসলিম)

অন্য হাদিসে উল্লেখ আছে, “তোমরা অধীনদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে এবং তাদের কোনো রকমের কষ্ট দেবে না। তোমরা কি জানো, তাদেরও হৃদয় আছে। ব্যথা দিলে তারা দুঃখ পায়, আর শান্তি দিলে সন্তুষ্ট হয়।” (বুখারি)

মজুরদের অতিরিক্ত কাজের জন্য বাধ্য না করার নির্দেশও দিয়েছেন নবী (সা.), এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে তাদের অক্ষম বা অকর্মণ্য বানানোও নিষিদ্ধ। এছাড়া অন্যায়ভাবে শ্রমিককে প্রহার করার ফলাফলের জন্য কিয়ামতের দিন শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। (বায়হাকি)

মজুরি প্রদানের বিষয়ে মহানবী (সা.) জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “মজুরকে তার পরিশ্রমের আগে মজুরি পরিশোধ করে দাও।” (ইবনে মাজাহ)

বিশ্লেষকরা মনে করেন, মহানবীর এই নির্দেশ সমসাময়িক সমাজে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য আজও প্রাসঙ্গিক।