বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সাম্প্রতিক কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অর্থনৈতিক লেনদেন সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে ‘ভুল তথ্যভিত্তিক’ এবং ‘সভাপতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে সাজানো’ বলে আখ্যায়িত করেছে। শনিবার (২৬ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে বোর্ড।

\r\n

বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, বোর্ড সভাপতি ফারুক আহমেদ দায়িত্ব গ্রহণের (আগস্ট ২০২৪) পর থেকেই আর্থিক স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অতীতের আর্থিক অনিয়মের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

\r\n

স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে বিসিবি সিদ্ধান্ত নেয় শুধুমাত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ও ইয়েলো ক্যাটাগরিভুক্ত ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাবে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক থেকে ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করে তার মধ্যে ২৩৮ কোটি টাকা নিরাপদ ব্যাংকে পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়। বাকি ১২ কোটি টাকা বোর্ডের দৈনন্দিন ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।

\r\n

বিসিবি স্পষ্ট করে জানায়, অর্থ স্থানান্তর বা ব্যাংক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সভাপতির একক নয়। এসব সিদ্ধান্তে বোর্ডের ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহা ও টেন্ডার ও পারচেজ কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল আনাম স্বাক্ষর করেন। সভাপতি নিজে স্বাক্ষরকারী ছিলেন না।

\r\n

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিসিবির সম্পদ ১৩টি নির্ভরযোগ্য ব্যাংকে সংরক্ষিত রয়েছে, যার ফলে বোর্ড ২–৫ শতাংশ অতিরিক্ত সুদ আয় করছে। পাশাপাশি, গত ছয় মাসে এই ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকার স্পনসর এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো উন্নয়নে আরও ২০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

\r\n

বিসিবি গঠনমূলক ও তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার প্রতি সম্মান জানালেও বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে ক্রিকেট বোর্ড এবং দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ না করতে সংবাদমাধ্যমকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

\r\n

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বোর্ডের ভেতর ও বাইরের কিছু ‘স্বার্থান্বেষী মহল’ বোর্ডের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরিচালন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।