অহংকার এমন এক ধ্বংসাত্মক অভ্যাস, যা মানুষের ঈমানকে দুর্বল করে দেয় এবং তাকে আল্লাহর নিকটতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অহংকারের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে।

কোরআনের সূরা বাকারার শুরুতেই আল্লাহ তাআলা মুত্তাকিদের গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন:

“(মুত্তাকিরা হলো তারা) যারা গায়েবের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি যেসব রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।” (সূরা বাকারাহ: ৩)

এই আয়াতে ‘গায়েব’ বা অদৃশ্যের প্রতি ঈমানকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। ঈমানদার হতে হলে এমন অনেক বিষয়ে বিশ্বাস রাখতে হয়, যেগুলো দৃষ্টিগোচর নয়—যেমন: পরকাল, ফেরেশতা, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি। একজন প্রকৃত মুত্তাকি বা আল্লাহভীরু ব্যক্তি তার সীমিত জ্ঞান ও বোধশক্তির বাইরের জিনিসেও বিশ্বাস স্থাপন করে, কারণ সে জানে—মানুষ সৃষ্টিগতভাবে দুর্বল ও সীমাবদ্ধ।

অহংকার: জান্নাতে প্রবেশের অন্তরায়

অহংকার মানুষের এমন এক অভ্যাস, যা তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বলেন:

“যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।”
(সহিহ মুসলিম)

এই কথাটি শুনে সাহাবিরা চিন্তিত হয়ে জানতে চাইলেন, “হে আল্লাহর রাসুল, যদি কেউ ভালো পোশাক পরে বা নিজের কোনো অর্জনে আনন্দিত হয়, সেটাও কি অহংকার?” রাসুলুল্লাহ (সা.) উত্তর দেন:

“না, অহংকার হলো—মানুষকে হেয়জ্ঞান করা এবং সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা।”

অর্থাৎ অহংকারের মূল বৈশিষ্ট্য দুটি হলো:

অন্যকে তুচ্ছ ভাবা

সত্য বা সঠিক বিচার অস্বীকার করা

এই দুইটি গুণই আল্লাহর গুণাবলিকে অস্বীকার করে মানুষের নিজের মধ্যে তা স্থাপন করার চেষ্টা, যা মারাত্মক অপরাধ।

আল্লাহর গুরুত্ব না দেওয়া: বড় অপরাধ

কোরআনে বলা হয়েছে:

“তারা আল্লাহকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি, যেমনটা করা উচিত ছিল।”
(সূরা জুমার: ৬৭)

এই আয়াত অহংকারীদের উদ্দেশেই এসেছে—যারা নিজেদের অতিমাত্রায় বড় মনে করে, আল্লাহর বিধান ও বিচারকে অবজ্ঞা করে চলে।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন:

“যখন কেউ অন্যকে হেয় করে বা সঠিক বিচারকে প্রত্যাখ্যান করে, তখন সে নিজের মধ্যে আল্লাহর গুণাবলি দাবি করে বসে। এই অভ্যাসই তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।”


অহংকার মানুষের ভেতর থেকে বিনয়, ঈমান ও নরম মনোভাবকে ধ্বংস করে দেয়। এটা এমন এক ব্যাধি, যা মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করে। তাই প্রতিটি ঈমানদারের উচিত—নিজেকে সব সময় ছোট মনে করা, অন্যদের সম্মান করা, সত্য মেনে নেওয়া এবং নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে অহংকার থেকে বাঁচিয়ে বিনয় ও ঈমানের পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।