গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, “আওয়ামী লীগ এখন একটি মৃত রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে। তারা জনগণের আস্থা হারিয়ে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনীতি থেকে পরিত্যক্ত হয়েছে। এখন এই দলকে ‘রাজনীতির কবরস্থানে’ পাঠানোর সময় এসেছে।”
\r\nসম্প্রতি রাজধানীতে এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
\r\nভিপি নুর বলেন, “আওয়ামী লীগের পতনের জন্য দায়ী দলটির চাঁদাবাজি, দখলদারি, নিপীড়ন ও দুর্বৃত্তায়ন। হাটবাজারের ইজারা থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এ কারণেই জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।”
\r\nতিনি বলেন, “আমরা চাই না, আওয়ামী লীগের মতো আচরণ অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা আন্দোলনে পুনরাবৃত্তি হোক। আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন। তাদের সন্তানরা বিদেশে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছে, আর যারা দেশে আছেন তারা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গেছেন।”
\r\n৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাদের ভারত পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে নুর বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা বলে আসছি, আওয়ামী লীগ ভারতের তাবেদার একটি রাজনৈতিক দল। তাদের হাত ধরেই ভারত বাংলাদেশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। আজ সেই প্রমাণ স্পষ্ট।”
\r\nতিনি আরও বলেন, “বর্তমানে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা ও চীনের সঙ্গে বিরোধের সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে, যেখানে আওয়ামী লীগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
\r\nদেশের সকল নাগরিক ও রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সাধারণ আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ করা উচিত নয়। তবে যারা দখল, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক নির্যাতনে জড়িত ছিলেন—তাদের বিচার হবে।”
\r\nভিপি নুর বলেন, “এই বাংলায় আওয়ামী লীগের আর কোনো রাজনৈতিক ঠিকানা থাকবে না। ‘এই বাংলায় হবে না আওয়ামী লীগের ঠিকানা’—এই স্লোগানেই আজকের সমাবেশ মুখর ছিল।”
\r\nতিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার সব রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে গঠিত একটি জাতীয় সরকার। “আমরা সরকারবিরোধী নই, বরং রাষ্ট্র সংস্কার ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে কাজ করছি,” বলেন তিনি।
\r\nনুর বলেন, “ছাত্রলীগকে ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা আশা করি, শিগগিরই আওয়ামী লীগ ও যুবলীগকেও সন্ত্রাসী ও গণহত্যাকারী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করা হবে।”





