ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট নিয়ে সন্দেহ এবং সংশয়ের মধ্যে গোপালগঞ্জ জেলার তিনটি আসনই রাজনৈতিক উত্তাপে ভরপুর। আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ জেলার আসনগুলোতে বিএনপি ও জামায়াতসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে নিজস্ব উপস্থিতি জোরদার করছেন।

স্বাধীনতার পর থেকেই গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ রাখায় এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত। এই পরিস্থিতি বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। তারা নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগ, কর্মী সমাবেশ, ধর্মীয় সভা ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন।

গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী)
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী। তিনি নির্বাচনি এলাকায় সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন।
জামায়াতের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাও. আব্দুল হামীদও নিজের প্রচারণা জোরদার করেছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, জাকের পার্টি, গণফোরাম ও এনসিপির প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয়।

গোপালগঞ্জ-২ (গোপালগঞ্জ সদর-কাশিয়ানী)
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. কে এম বাবর আলী বিএনপির প্রার্থী। তিনি মিছিল, সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ আজমল হোসেন সরদার ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাও. তসলিম হুসাইন শিকদার নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। জাকের পার্টি ও গণফোরামের প্রার্থীরাও নিজেদের প্রার্থিতা জানান।

গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া)
বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী এস এম জিলানী। তিনি হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে গিয়ে সম্প্রীতি সমাবেশ করছেন এবং ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।
জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক এম এম রেজাউল করিম নিয়মিত গণসংযোগ এবং ওয়াজ-মাহফিল ও মাদ্রাসার অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া ইসলামী যুব আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ এবং এনসিপির প্রার্থীরাও নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এই আসনগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও অংশ নিচ্ছেন। গোপালগঞ্জে সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মাঠে তৎপর, তবে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার সহজ হবে না।