জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহী জেলা কমিটিতে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’কে আহ্বায়ক করা হয়েছে—এ অভিযোগ তুলে সদ্য ঘোষিত জেলা কমিটির পাঁচ নেতা পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর পর্যটন মোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেন।
গত ২৯ নভেম্বর এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম স্বাক্ষরিত নোটিশে নতুন রাজশাহী জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।
পদত্যাগকারী পাঁচ নেতা হলেন—হাবিবুর রহমান, মিঠুন সরকার, তারিকুল ইসলাম, মাসুদ রানা ও রাকিবুল হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে তারিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “আমাদের জেলা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে একজন আওয়ামী লীগের দোসরকে বসানো হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা হয়েও আমরা তাঁকে মেনে নিতে পারি না।”
নেতারা অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া হলেও ‘স্বৈরাচারের দোসর সাইফুল ইসলামকে’ আহ্বায়ক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে এমন একজনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে যার ‘জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’ তারা অবিলম্বে কমিটি বাতিলের দাবি জানান।
একই সময়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও সত্য, তবে ‘১২ বছর আগের।’ অনুষ্ঠান উপস্থাপনার সময় তোলা এসব ছবি ‘ম্যানুপুলেট করে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।’
বিতর্কিত একটি ভিডিওতে রুবেলের পক্ষে তিনি বক্তব্য দেন—এ অভিযোগ প্রসঙ্গে সাইফুল দাবি করেন, “আমি তখন কিছু বুঝিনি। পরিচিত লোকেরা আমাকে ডেকে লিখে দেওয়া বক্তব্য পড়তে বলেছিল।”
তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “যদি আমার কোনো অনৈতিক বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, আমি নিজেই ক্ষমা চেয়ে সরে দাঁড়াব।”
সংবাদ সম্মেলনের এক পর্যায়ে এক যুবকের হুমকিতে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। পরে এনসিপি নেতাকর্মীরা স্থান ত্যাগ করেন। পদত্যাগ বিষয়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও সাইফুল ইসলাম সাড়া দেননি।
এনসিপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন বলেন, “সাইফুল ভাই বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। ছবি–ভিডিও ছাড়া তেমন কিছু পাওয়া যায়নি।” পাঁচজনের পদত্যাগ বিষয়ে তিনি জানান, তার জানা মতে শুধু একজন—মোবারক—পদত্যাগ করেছেন।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





