কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সম্প্রতি ঢাকায় আবারও একের পর এক ঝটিকা মিছিল করছে। গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর তেজগাঁওয়ের নাবিস্কো এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ব্যানারে বড় মিছিল বের হয়। একই দিনে সকালে জিএমআই মোড় থেকেও একটি মিছিল করা হয়। শনিবার রাতেও রাজধানীর আবদুল্লাহপুর থেকে সুইচগেট এলাকায় মশাল হাতে ঝটিকা মিছিল হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে ধারাবাহিক মিছিল ও নাশকতার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে দলটি। ঢাকায় অবস্থানরত নেতারা ছদ্মবেশে মিছিল থেকে ককটেল নিক্ষেপসহ সহিংসতার ছক আঁকছে বলে জানা গেছে। এর পেছনে বিদেশে অবস্থানরত দলীয় নেতাকর্মী ও শিল্পপতিদের অর্থায়ন রয়েছে।
এছাড়া পলাতক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কর্মরত কিছু পুলিশ সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগেরও তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। তাদের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিএমপি সদর দপ্তর রাজধানীর সব থানায় ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। পেট্রোলিং ও নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি মিছিল ঠেকাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। তবুও ধানমন্ডি, বনানী ও তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত মিছিল হচ্ছে।
শুক্রবার তেজগাঁওয়ের মিছিলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা “শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে” ও “জয় বাংলা” স্লোগান দেয়। ওই ঘটনায় তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের নিয়ামুল হাসানসহ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক
এ পরিস্থিতিতে উপদেষ্টা পরিষদ ঝটিকা মিছিল মোকাবিলায় আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, বেআইনি সমাবেশ ও নাশকতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “এটা শুধু আইনশৃঙ্খলার ইস্যু নয়, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
প্রেস সচিব জানান, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এটি ঠেকাতে “পৃথিবীর কোনো শক্তিই সক্ষম নয়।” একই সঙ্গে দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে পালনের জন্য আগাম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজবাড়ীর সাম্প্রতিক ঘটনায় অন্তত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গেও সম্পৃক্ত।





