বেরোবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভের পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষকদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন আওয়ামীপন্থী শিক্ষক আওয়ামীলীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।
সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচনের পর বেশ কয়েকজন আওয়ামীপন্থী শিক্ষক বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। বিএনপিতে যোগ দিতে আগ্রহী আওয়ামীপন্থী কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে একাধিক গোপন বৈঠকের খবরও পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিএনপিপন্থী অন্তত দুইজন শিক্ষক এই প্রতিবেদককে এসব বৈঠকের কথা নিশ্চিত করেছেন।
বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনা, আদর্শ ও মূল্যবোধে উজ্জীবিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষকবৃন্দের সংগঠন নীল দলের বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হারুন আল রশীদের নেতৃত্বে নীল দলের পদধারী অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন শিক্ষক বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ড. হারুন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু হল বর্তমানে বিজয়-২৪ হলের সহকারী প্রভোস্টের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এছাড়া তিনি আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল থেকে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিএনপিতে যোগ দিলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রশাসনিক পদ পেতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে। একই বিভাগের আরেক শিক্ষক, সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফের নামও দল বদলের আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে শেখ হাসিনার ২০২৩ সালের ২ আগস্ট রংপুরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অংশ নেওয়া ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাও বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠনে যোগ দেওয়ার আলোচনায় রয়েছেন। তিনি আওয়ামীপন্থী নীল দলের প্যানেল থেকে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং আওয়ামী আমলে প্রভাবশালী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে আরও দুই থেকে তিনজন শিক্ষক বিএনপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপিপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন শিক্ষক মাসুদ রানা। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি নতুন প্রশাসনে পরিবহন পরিচালকের দায়িত্ব পান। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে প্রচার করে বেরোবি ছাত্রদল ও প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন। সম্প্রতি তিনি ব্রাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্বও পেয়েছেন।
দলবদলের বিষয়ে জানতে রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হারুন আল রশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা ব্যাক্তিগত বিষয়।বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টায় হয়েছে আওয়ামী আমলে।তাই কমবেশি সকলে ওই ধাচের ছিল।বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি এমনি নিষিদ্ধ।যদি হয় তাহলে সামনে দেখতেই পাবে।জোর করে বের করতে হবে না।
এ বিষয়ে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা কে ফোন করেও পাওয়া যায় নি।
দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকা বিএনপিপন্থী শিক্ষক ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান মজনু সাংবাদিকদের বলেন,আমরা চেষ্টা করি পরিস্কার চেহারার মানুষরায় আসুক।এখন দেখা যায় দীর্ঘদিন একদল করেছে আবার সুবিধা নেওয়ার জন্য আরেক দলে আসে।এটা মুলত সুবিধা আদায়ের জন্য।যারা দলকে ভালবাসে তারা নির্বাচনের আগে যুক্ত হওয়ার কথা।যারা এখন যুক্ত হতে যাচ্ছে এটাকে ভালোভাবে দেখার সুযোগ নেই। তাদেরকে বলতেও পারিনা অনেকে এসে পিছে পিছে ঘোরে । যারা এর আগে বিভিন্ন দলে যুক্ত ছিলো তাদের বিষয়ে আমরা ফোরামে সিদ্ধান্ত নিবো।যারা আগেও সুবিধা নিয়েছে এখনও সুবিধা নিতে আসবে বিষয়টা ভালো না।
যোগাযোগ করা হলে বেরোবি সাদা দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যসচিব ও বিএনপিপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান সাংবাদিকদের বলেন, না আমি কিছু জানি না ,এরকম কোনো খবর আমার কাছে নেই ।





