দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) থেকে নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। সর্বশেষ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ভরিতে ১ হাজার ৪৭০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন দামে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৭ টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ দাম। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ২১১ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকা।

বাজুস জানায়, নির্ধারিত এসব দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি আরও বাড়তে পারে।

এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা, যা ১২ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। তখন ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। সেদিন ভরিতে ৩২৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৭২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৪ হাজার ৩৬২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৭৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭৯৯ টাকায়।

বাজুসের তথ্যমতে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১০ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ৭ বার এবং কমেছে মাত্র ৩ বার। অপরদিকে, গত বছর রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মাত্র ৩ বার।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ব্যয় বাড়ার প্রভাবেই স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়ছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের পাশাপাশি গয়নার বাজারেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।