জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আজ রোববার কোনো বৈঠক হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “কর্মকর্তারা যদি শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চান, তাহলে তা করতে পারেন।”
অর্থ মন্ত্রণালয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। ড. সালেহউদ্দিন জানান, এনবিআর কর্মকর্তাদের চলমান আন্দোলন নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে পরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আপাতত কোনো বৈঠক না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুলাই বিকেল ৪টায় নির্ধারিত বৈঠকটি হবে কি না, তা নিয়েও পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, এনবিআরের একটি সূত্র জানায়, চলমান অচলাবস্থা নিরসনে রোববার বিকেলে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল। এই বৈঠকের জন্য আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট ক্যাডার থেকে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও চূড়ান্ত করা হয়। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার।
এদিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রোববারও এনবিআরের আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও ‘মার্চ টু এনবিআর’ কর্মসূচি পালন করছেন। আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আদায় কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, চলমান সংকট সমাধানে ব্যবসায়ী নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে আজ দুপুরে রাজধানীর একটি চেম্বার কার্যালয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকের ফলাফল অনুসারে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকের বিষয়টি নির্ধারিত হবে।
অন্যদিকে, আন্দোলনের প্রভাবে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। কনটেইনার ডেলিভারি, মূল্যায়ন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এর ফলে রাজস্ব আদায় ও ব্যবসা-বাণিজ্য চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শনিবার দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, চলমান অচলাবস্থার কারণে প্রতিদিন শুধু পোশাক খাতেই প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। তারা দ্রুত এই সংকট সমাধানে সরকার ও আন্দোলনকারীদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে এনবিআর বিলুপ্ত করে ‘রাজস্বনীতি বিভাগ’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনে অধ্যাদেশ জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর পর থেকেই এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নামেন। ২৫ মে সরকার ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে অধ্যাদেশ সংশোধনের আশ্বাস দিলে আন্দোলন স্থগিত হয়। তবে ২২ জুন থেকে এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণসহ নতুন দাবিতে আবারও আন্দোলনে নামে কর্মকর্তারা। তারই ধারাবাহিকতায় দেশজুড়ে চলছে শাটডাউন কর্মসূচি।





